বুধবার, ২০ মার্চ, ২০১৩

বাংলাদেশের প্রতি ভারতীয় নেতাদের ঘৃণিত মনোভাব।


বৃটিশ ইন্ডিয়াতে ধর্মের উপর ভর করে দেশ ভাগ হবার পরিকল্পনা যখন হয় তখন থেকেই ভারতীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এর বিরোধিতা করে আসছিল। সেই থেকেই ভারতীয় উপমহাদেশে হিন্দু-মুসলিম আলাদা সত্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয় রাজনৈতিক কারনে। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ পাওয়া যায় নিরোধ চৌধুরীর কথায়। তিনি বলেন, "আমরা মুসলমানদের প্রতি আগে থেকেই সাধারণভাবে বিদ্বেষ পোষণ করতাম আমাদের উপর তাদের এককালের আধিপত্যের কারনে।" আরো অনেক রাজনৈতিক বিদ্বেষ পাওয়া যায় ভারতীয় নেতাদের কথায়। বিশেষ করে তাদের বিদ্বেষ ধরা পরে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে। কয়েকটি উদাহরণ দিলাম।

১। পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছিল ১৯৪৭ সালের আগষ্ট মাসে। এর পরের মাসে অর্থাৎ সেপ্টম্বরে বসেছিল নিখিল ভারত কংগ্রেসের সেন্ট্রাল কমিটির বৈঠক। সভাপতিত্ব করেন পার্টির তৎকালীন সভাপতি ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহার লাল নেহেরু। উক্ত সভায় প্রশ্ন উঠেছিল, “কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা ভারতবাসীকে সব সময় অখণ্ড ভারত-মাতার কথা বলে এসেছে,কিন্তু ভারত-মাতার দেহ তো খণ্ডিত হয়ে গেল। আমরা জনগণের কাছে কি জবাব দিব?” জবাবে জওহার লাল নেহেরু বলেছিলেন, “অলইন্ডিয়া কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানিয়ে দিতে চাই, ভারত বিভাগকে আমরা সাময়ীক ভাবে মেনে নিচ্ছি”।

২। ২০০১ সালে বাংলাদেশের সীমান্তে হামলা করেছিল ভারতীয় সৈন্যরা। সে হামলা রুখে দিয়েছিল অধুনালুপ্ত বিডিআর’য়ের জোয়ানেরা। বিডিআর জোয়ানদের হাতে সেদিন ২৫ জন ভারতীয় সৈন্য নিহত হয়েছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারতের বিজিপি নেতা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এল কে আদভানি হুমকি দিয়েছিলেন বোমা হামলা করে ঢাকাস্থ বিডিআর হেডকোয়ার্টার গুড়িয়ে দেয়ার।

৩। ভারতীয় রাজনৈতীক বিশ্লেষক এমভি কামাথ ভারতের “দি মেল” পত্রিকায় ২০০৩ সালে লিখেছিলেন, "Let it be said in simple and plain language: Bangladesh has no business to exist. Its creation in 1947 was a historic mistake as Lord Curzon's partition of Bengal was in 1905. Curzon's plan to divide Bengal was annulled because in the end Bengal's sense of unity prevailed. Bangladesh, if it wants to survive, must return to India and India in return must help it to do so.’’

৪। ভারতের “দি এশিয়ান এজ” পত্রিকার ২০০৯ এর ২৪ মার্চ সংখ্যায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাবেক চিফ অব আর্মি স্টাফ জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) শংকর রায় চৌধুরি লিখেছেন, “এটি বড় দুঃখের কথা যে বাংলাদেশ এত সহজে এবং এতটা বার বার নয়াদিল্লীর রাডারের বাইরে চলে যায়। সেটি এখন আর ঘটতে দেয়া যায় না।”

৫। ১৯৭৪ সালে পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত হয় ওআইসির রাষ্ট্রপ্রধানদের শীর্ষ সম্মেলন। সে সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে দাওয়াত দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সে সম্মেলনে যোগ দেয়ার ফল দাঁড়িয়েছিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে তাঁর দিল্লি সফরকালে তৎকালীন ভারতীয় পরারাষ্ট্র মন্ত্রী চরন সিং কড়া ভাষায় শোকোজ করেছিলেন। ইন্দিরা গান্ধির সামনে শ্রী চরন সিং তাঁকে সরাসরি প্রশ্ন করেছিলেন,ভারত সরকারের সাথে চু্ক্তি রয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি হতে হবে ভারতের সাথে পরামর্শের ভিত্তিতে। কিন্তু ভারতকে না জানিয়ে তিনি লাহোরে গেলেন কোন যুক্তিতে? (সূত্রঃ বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব আসাফ উদ্দৌলার ইউটিউবে ধারণকৃত ভাষণ, যিনি দিল্লির সে মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সে কথাটি তিনি নিজ কানে শুনেছিলেন)।

৬। ভারতীয় পত্রিকা ডেইলী নিউজ এ্যান্ড এন্যালিসিস এর ২০১১ সালের ১৬ই জুলাই সংখ্যায় প্রকাশ, বিজিপি নেতা এবং সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুব্রামানিয়াম স্বামী বাংলাদেশের কিছু অংশ দখল করে নেয়ার হুমকি দেন। উক্ত নিবন্ধে তিনি সিলেট থেকে খুলনা অবধিক বাংলাদেশের উত্তরাংশের এক-তৃতীয়াংশ দখল করে ভারতের সাথে একীভূত করে সেখানে বাংলাদেশ থেকে আসা উদ্বাস্তুদের জন্য বসবাসের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেন।

৭। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ লিখেন, To the very end, some congress leaders, including Gandhi, Patel and Maulana Azad, dissociated themselves in principle from the idea of partition. Nehru’s views were also somewhat in the same line; on November 28, 1947 he stated; ultimately both the dominions will unite into one country. (আর্টিকেল, foreign policy of Bangladesh- a small state’s imperative’)

৮। অধ্যাপক জি ডব্লিও চৌধুরী লিখেন, Active communal organizations- the Hindu Mahasabha, the Rashtriya Swayam Sevak Sangha, and the council for Protection of the rights of Minorities- demanded that partition be repudiated and East Bengal be forcibly made a part of India or that it be constrained by economic pressure. (বই: Pakistan’s Relations with India 1947 – 1966)

শনিবার, ২ মার্চ, ২০১৩

এখনকার এই হত্যাযজ্ঞেরর জন্য কি আসলেই জামাত-শিবির দায়ী???

১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণহত্যায় সমর্থন দিয়ে নিজস্ব তত্বাবধানে শান্তিকমিটি, রাযাকার, আলবদর, আলশামস বাহিনী গড়ে তোলে তৎকালীন জামায়াত এবং ছাত্রসংঘ। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া উচিত ছিল এই জামাত-ছাত্রসংঘ নামক বাহিনীর। কিন্তু স্বাধীনতা অর্জনের ৪২ বছর পরেও ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের উপর সদর্পে দাড়িয়ে আছে জামাত শিবির (তৎকালীন ছাত্রসংঘ)। তারা একে একে গড়ে তুলেছে অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান। ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রন নিতে শুরু করেছে আমাদের অর্থনীতি। এক ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে আমাদের শিল্প প্রতিষ্ঠানের (রেডিমেট গার্মেন্টস, সার, তেল, জাহাজ) প্রায় ৪০% নিয়ন্ত্রণ করে। এমনকি নিজস্ব মানি ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অন্যান্য ইসলামী ব্যাংকও নিয়ন্ত্রন করে। তাদের পক্ষে এতকিছু সম্ভব হল কি করে?

এর বহুবিধ কারন আছে। মূল কারন হল আমাদের (মিথ্যা) দেশ প্রেমিক রাজনীতিবিদগন তাদের প্রয়োজনে জামায়াতকে পুনর্বাসিত করেছে এ দেশে। ১৯৭৭ সালে যখন শিবির প্রতিষ্ঠা হয় তখন কি একে নিষিদ্ধ করা সম্ভব ছিল না। অবশ্যই ছিল। তবে কেন এই ৩৫ বছরে শিবিরকে এদেশের মাটিতে শিকড় গড়ার সুযোগ দেয়া হল? ৯১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে কি দরকার ছিল রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গোলাম আযমের কাছে দোয়া চাওয়ার? কেন ১৯৯২ সালে গণআদালতের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহীর মামলা দেয়া হয়েছিল? ৯৬তে আওয়ামী লীগ কেন জামায়াতের সাথে জোটবদ্ধ আন্দোলন করেছে? কেন ২০০১ সালে বিএনপি জামাতের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করেছে?

আমাদের দেশের ভন্ড দেশপ্রেমিকগণ উপরের 'কেন'গুলোর জন্ম দিয়েছেন বলেই আজ পুলিশ বাধ্য হচ্ছে এদেশের নাগরিকদের উপর গুলি করতে। আমাদের দেশের ভন্ড দেশপ্রেমিকগণ উপরের 'কেন'গুলোর জন্ম দিয়েছেন বলেই জামা্যাত-শিবির আমাদের দেশের সুর্য সন্তানদের ভূল বুঝাতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের দেশের ভন্ড দেশপ্রেমিকগণ উপরের 'কেন'গুলোর জন্ম দিয়েছেন বলেই দেশের স্বার্থে আজ এই তরুন সমাজ বাধ্য হচ্ছে তার এক বাঙ্গালী ভাই সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ করতে। আমাদের দেশের ভন্ড দেশপ্রেমিকগণ উপরের 'কেন'গুলোর জন্ম দিয়েছেন বলেই আজ বাংলা মা বারবার রক্তে রন্জিত হচ্ছে। আমাদের দেশের ভন্ড দেশপ্রেমিকগণ উপরের 'কেন'গুলোর জন্ম দিয়েছেন বলেই ৪২ বছর পরেও আমাদের আক্ষেপ রয়ে যায়। আজ এই দেশে জামাত-শিবিরের কারনে যত অন্যায়, অপরাধ হচ্ছে তার সিংহ ভায় দায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির।

অবশেষে, আজ সময় এসেছে এই বাংলাদেশকে নতুন করে গড়বার। কেন আমরা সেই সুযোগ নিব না। অবশ্যই এই বাংলাদেশ সোনার বাংলা হবে।

সোমবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

কে এবং কেন ধর্ষণ করে: নিজস্ব চিন্তাভাবনা

ধর্ষণ নিয়ে ব্লগে বেশ কয়েকদিন ধরেই অনেক আলোচনা হচ্ছে। কেহ বলছেন, যারা ধর্ষণ করে তারা পশুর থেকেও খারাপ। কেহ বলছেন, ধর্ষণের কারণ, কোন কোন নারী সংক্ষিপ্ত এবং আটশাট পোষাক পড়ছে তাই ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। ব্লগে বিভিন্ন জনের লেখা পড়তে পড়তে কেন ধর্ষণের মত ঘৃণ্য ঘটনা ঘটছে এ সম্পর্কে একটা চিন্তা আমার মাথায় উকি দিচ্ছে। আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করবেন।

ধর্ষণ কি?
ধর্ষণ বলতে আমরা বুঝি, একজন নারীকে (জোড় পূর্বক) তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা।

কেন ধর্ষণ করে?
প্রতিটি মানুষের মাঝেই শারীরিক চাহিদার তাড়ণা আছে। কেহ কেহ এই চাহিদার তরিৎ বাস্তবায়ন করতে গিয়েই ধর্ষণের আশ্রয় নেন।

কারা ধর্ষণ করে?
১। পত্রিকায় প্রকাশিত ধর্ষণের ঘটনাবলী দেখে অনুমান করা যায় যারা ধর্ষক তাদের বয়স মোটামুটি ২০ থেকে ৪০ এর মাঝে।
২। যারা ধর্ষক তারা (যে কোন ভাবে) ধর্ষণের শিকার নারীর পরিচিত এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নিন্ম মধ্যবিত্ত ও নিন্মবিত্ত শ্রেণীর মানুষ।
৩। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ধর্ষক বিবাহিত।
৪। সাধারণ ধারণা অনুযায়ী বলা যায়, যারা ধর্ষক তারা মানসিক বিকারগ্রস্থ।

কথা হল, কেন তারা মানসিক বিকারগ্রস্থ?। এর কারন অনেকটা এইরকম:
৪.১। পারিবারিক অশান্তি
৪.২। ধর্ষক যে সমাজে/পরিবারে বেড়ে উঠেছেন সেখানে পর্যাপ্ত নৈতিক শিক্ষার অভাব ছিল।
৪.৩। ধর্ষক যে পরিবারে বেড়ে উঠেছেন সেই পরিবারের সবার মাঝে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিলনা।
৪.৪। ধর্ষক ব্যক্তির সাথে তার মায়ের সাথে ভাল সম্পর্ক ছিল না।
৪.৫। ধর্ষক নেশাগ্রস্ত/মাদকাসক্ত।
৪.৬। পর্ণো সিনেমার ব্যাপক প্রসার।
৪.৭। পর্ণো ম্যাগাজিনের ব্যাপক প্রসার।
৪.৮। স্বামী-স্ত্রীর মধুর সম্পর্ক না থাকা।
৪.৯। বিয়ের পরে বৌয়ের থেকে অনেক দিন আলাদা থাকা।
৪.১০। ধর্ষণের অপরাধ প্রমানে জটিলতা, এবং আদালতে জামিনের ব্যবস্থা থাকা।

উপরে যেসব ধর্ষকের কথা বলা হয়েছে এদের বাইরেও আরেক শ্রেণীর ধর্ষক আছে যারা নিজেদেরকে প্রেমিক হিসেবে পরিচয় দেয়। এ শ্রেণির ধর্ষকেরা তার উপরে অগাধ বিশ্বাস করা নারীর সাথে বিয়ে বহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ক করে এবং তা ভিডিও করে। পরবর্তীতে সেই ভিডিওর উপর ভর করে নারীকে বিভিন্নভাবে ব্লাকমেইল করে এবং পরবর্তীতে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়।

এদের বাইরে আরও এক শ্রেণীর ধর্ষক আছে আমাদের সমাজে। এরা বিভিন্ন প্রয়োজনে ঘরের বাইরে আসা নারীর শরীরে হাত বুলিয়ে বেড়ায়। এরা নারীকে শারীরিকভাবে ধর্ষণ করেনা কিন্তু নারীর শরীরে এমনভাবে চোখ বুলিয়ে যায় যেন সে চোখ দিয়েই নারীকে ধর্ষণ করছে। এরাই সমাজে সবচেয়ে ভয়ংকর।

সর্বোপরি, ধর্ষণ সকল সমাজেই ঘৃণ্য এবং অগ্রহণযোগ্য ঘটনা। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যারা এই সকল ঘৃণ্য এবং অগ্রহণযোগ্য কাজ করেন তাদের আপনি হেদায়েত দান করুন অথবা ধ্বংশ করে দিন।

বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

কেন আমি ইসলাম মানিনা: ২৫টি কারণ

ইসলাম আরবী শব্দ। এর অর্থ করা হয় শান্তি। বলা হয়, ইসলাম শান্তির ধর্ম। কিন্তু আমার কাছে ইসলামকে অশান্তি লাগে। এটা করা যাবেনা, ওটা করা যাবেনা। এটা এভাবে কর, ওটা ঐ ভাবে কর। হাজারো ঝামেলা। আরে বাবা! আমি আমার মত চলব এতে ইসলামেরর কি? বিভিন্ন কারনেই আমি ইসলামের প্রতি বীতশ্রদ্ধ। কারণগুলো নিন্মরুপ:

১। আমি রাত জেগে মুভি দেখি। সকালে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকি। ফলে মধুর ঘুম ফেলে ওযু করে মসজিদে গিয়ে ফজরের নামাজ পড়া সম্ভব নয়।

২। দুপুরে গুরুত্বপূর্ণ কাজ থাকে আবার খাবার শেষে একটু বিশ্রাম নিতে হবে। মসজিদে গিয়ে যোহরের নামাজ পড়ার সময় কোথায়?

৩। সারাদিনের পরিশ্রমের পরে বান্ধবীর সাথে দেখা। দুজনে একান্তে সময় কাটানো। এই মূহূর্তে বান্ধবীর সঙ্গ বাদ দিয়ে মসজিদে গিয়ে আসরের নামাজ পড়া সম্ভব নয়।

৪। অনেকদিনের বন্ধুত্ব আমাদের। বেশ হাসি-তামাসায় মেতে আছি। বন্ধুদের আড্ডা মিস করে মসজিদে গিয়ে মাগরীবের নামাজ পড়া সম্ভব নয়।

৫। সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে আমি ক্লান্ত, সুতারং মসজিদে গিয়ে এশার নামাজ পড়া সম্ভব নয়। আমাকে বিশ্রাম নিতে হবে।

৬। নারী দেহের প্রতি আমার আকর্ষণ কিন্তু ইসলাম আমাকে ইচ্ছাকৃতভাবে অন্য নারীর দিকে তাকাতে নিষেধ করে তাই ইসলাম অনুসরণ করা সম্ভব নয়।

৭। আমি বান্ধবীর সাথে অনেক মিথ্যা কথা বলি কিন্তু ইসলাম মিথ্যা কথা বলতে আমাকে নিষেধ করে তাই ইসলাম অনুসরণ করা সম্ভব নয়।

৮। আমি চাকরী করি। চাকরীর টাকায় বিলাসী জীবন কাটানো সম্ভব নয়। তাই বিলাসী জীবন যাপনের জন্য আমি ঘুষ খাই, দূর্নীতি করি কিন্তু ইসলাম আমাকে দূর্নীতি করতে নিষেদগ করে। তাই ইসলাম অনুসরণ করা সম্ভব নয়।

৯। আমি আমার বৌয়ের সন্তুষ্টির জন্য বাবা মার থেকে আলাদা থাকি। যদিও এতে বাবা মা কষ্ট পায় কিন্তু আমি আমার বৌকে নিয়ে সুখে আছি। কিন্তু ইসলাম বাবা-মাকে কষ্ট দিতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছে তাই আমার পক্ষে ইসলাম অনুসরণ করা সম্ভব নয়।

১০। আমি অন্য ধর্মের অনুসারীদের অবহেলা করি কিন্তু ইসলাম আমাকে অন্য ধর্মের অনুসারীদের সম্মান করতে বলে তাই আমার পক্ষে ইসলাম অনুসরণ করা সম্ভব নয়।

১১। আমি রাস্তায় মেয়েদের উত্তক্ত করি কিন্তু ইসলাম মেয়েদের উত্তক্ত করতে নিষেধ করে তাই আমার পক্ষে ইসলাম অনুসরণ করা সম্ভব নয়।

১২। ইসলাম "সামাজিক প্রয়োজন ও যৌক্তিক কারণে সবার প্রতি সমান ভালবাসা ও সম্মান" পূর্বক একের অধিক বিয়ের কথা বলে কিন্তু আমি আমার বৌকে না জানিয়ে শারীরিক চাহিদার কারনে একের অধিক বিয়ে করেছি তাই আমার পক্ষে ইসলাম অনুসরণ করা সম্ভব নয়।

১৩। আমি নারীদের প্রতি আসক্ত। আমি নিয়মিত পতিতালয়ে যাই কিন্তু ইসলাম বিয়ে ব্যতিরেকে শারীরিক সম্পর্ক কঠোরভাবে নিষেধ করেছে, প্রয়োজনে রোযা পালনের কথা বলেছে। কিন্তা তা মান্য করা আমার সম্ভব নয়। সুতারং আমার পক্ষে ইসলাম অনুসরণ করা সম্ভব নয়।

১৪। ইসলাম পরকীয়া নিষেধ করে কিন্তু আমি পরকীয়া করি। তাই আমার পক্ষে ইসলাম অনুসরণ করা সম্ভব নয়।

১৫। ইসলাম নির্জনে একাকী নারী-পুরুষের অবস্থান নিষেধ করে। কিন্তু আমি নারীর সাথে নির্জনে অবস্থান পছন্দ করি। তাই আমার পক্ষে ইসলাম অনুসরণ করা সম্ভব নয়।

১৬। ইসলাম বলে, প্রতিবেশী অভূক্ত থাকা অবস্থায় যেন আমি পেট ভরে না খাই। এবং আমার খাবারের একটা অংশ যেন আমার প্রতিবেশীকে দেই। কিন্তু নিজেট গাটের টাকা খরচ করে অন্যকে খাওয়াইতে আমি রাজি না। তাই আমার পক্ষে ইসলাম অনুসরণ করা সম্ভব নয়।

১৭। ইসলাম সবার প্রতি সমান আচরণের কথা বলে কিন্তু আমি আমার থেকে নিচু অবস্থার মানুষকে অবজ্ঞা করি। তাই আমার পক্ষে ইসলাম অনুসরণ করা সম্ভব নয়।

১৮। ইসলাম বলে আমার সঞ্চয় করা টাকা, গহনার ২.৫০% প্রতি বছর যাকাত দিতে। কিন্তু আমি আমার কষ্টের উপার্জন অন্যকে দিতে রাজি নই। তাই আমার পক্ষে ইসলাম অনুসরণ করা সম্ভব নয়।

১৯। ইসলাম আমাকে সর্ব শক্তিমান আল্লাহর উপর বিশ্বাস আনতে বলে। কিন্তু আমি বাস্তববাদী। যাহাকে কখোনো চর্মচক্ষে দেখি নাই তাহাকে বিশ্বাস করা সম্ভব নয়। তাই আমার পক্ষে ইসলাম অনুসরণ করা সম্ভব নয়।

২০। আমি মনে করি মৃত্যুর সাথে সাথে আমার জীবনের অবসান ঘটবে কিন্তু ইসলাম বলে মৃত্যুর পরেও নাকি জীবন আছে এবং সেই জীবনে পৃথিবীতে করা আমাদের সকল ভাল-মন্দের বিচার হবে। ভাল কাজের কন্য পুরষ্কার দেয়া হবে এবং খারাপ কাজের জন্য শাস্তি দেয়া হবে। সুতারং, আমার পক্ষে ইসলাম অনুসরণ করা সম্ভব নয়।

২১। ইসলাম বলে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হবে। কিন্তু আমি রাস্তায় কোনো অন্যায় দেখলে 'আমার কিছু হয়নি' বলে অন্যত্র চলে যাই। তাই আমার পক্ষে ইসলাম অনুসরণ করা সম্ভব নয়।

২২। ইসলাম বলে, খারাপ কাজ থেকে দুরে থাকতে এবং ভাল কাজ দিয়ে খারাপের মোকাবিলা করতে। কিন্তু আমি তা করি না। তাই আমার পক্ষে ইসলাম অনুসরণ করা সম্ভব নয়।

২৩। ইসলাম আমাকে কোনো যৌক্তি কারন ব্যতিরেকে প্রাণী হত্যা করতে নিষেধ করে কিন্তু শিকারের নামে অহরহ প্রানী হত্যা করি। সুতারং আমার পক্ষে ইসলাম অনুসরণ করা সম্ভব নয়।

২৪। ইসলাম বলে প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার করতে এবং তার দোষ গোপন রাখতে এবং তার ভূল ধরিয়ে দিতে কিন্তু আমি সারাক্ষণ আমার প্রতিবেশীর দোষ খুজে বেড়াই এবং অন্যের কাছে প্রতিবেশীর বদনাম করতে থাকি। সুতারং আমার পক্ষে ইসলাম অনুসরণ করা সম্ভব নয়।

২৫। ইসলাম অন্যের সম্পর্কে মিথ্যা অপবাদ দিতে নিষেধ করে। কিন্তু আমি রাজনীতি করি। অন্যের নামে অপবাদ তো আমাকে দিতেই হবে। সুতারং আমার পক্ষে ইসলাম অনুসরণ করা সম্ভব নয়।